জাতীয়বাংলাদেশরাজনীতিসর্বশেষ নিউজ

হরিণাকুন্ডুতে নৌকা প্রতীক জেতাতে ভিক্ষার পাঁচ’শ টাকা তুলে দিলেন এক ভিক্ষুক

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ শেখ সাহেব আমাগের (আমাদের) দ্যাশটা স্বাধীন করছে। দেশের জন্যি (জন্য) জীবন দিছে, তাঁর পরিবারের সবলোককে মাইরা ফেলছে পাকিস্থানি রাজাকাররা, আমাগের নেতা তিনি, বঙ্গবন্ধু বাঁইচা (বেঁচে) থাকলে অহন (এখন) আমাগের দ্যাশটা (দেশটা) মেলা (অনেক) ধনী দ্যাশ হইতো। অহন তাঁর মেয়ে হাসিনা আমাগের জন্যি অনেককিছু করছে। আমাগেরে ভাতা দেয়, ট্যাকা (টাকা) দেয়, ঘর দেয়, কত্তকিচু (কতোকিছু) দেয়, মানষে (মানুষ) অহন কত্ত (কত) আরামে আচে (আছে)। আমাদের শেখ সাহেবের মেয়ে হাসিনার জন্যি আজ দ্যাশের মানুষ খুব ভালো আচি। বঙ্গবন্ধুর মার্কা নৌকা অহন আমাগের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মার্কা। তাঁর মার্কা হাইরা গেলে আমার খুব কষ্ট লাগে। শরীরটা ভালো না, ঠিকমতো হাটতি পারিনে। কষ্ট কইরা ভিক্ষে করে কোনরকম খেয়ে পরে ব্যাইচা থাকি। কাল আর আজ দুইদিন ভিক্কে কইরে পাঁচ‘শ টাকা জমাইছি। শুনচি আমাগের হন্ন্যোকুড়োই (হরিণাকুন্ডু) ফারুক ভাই ভোটে দাঁড়াইছে নৌকা মার্কায়। ফারুক ভাই খুব ভালো মানুষ, দেকা (দেখা) হলি ট্যাকা দেয়, শুনচি ফারুক ভাইয়ের ট্যাকা নেই। শেখ সাহেবের মার্কা, হাসিনার মার্কা নৌকা মার্কা হ্যাইরা গেলে খুব খারাপ লাগে। তাইতি আমার জমানো এই পাঁচ‘শ ট্যাকা ফারুক ভাইকে দিতি আইচি। আল্লাহ আমাগের হাসিনার নৌকা মার্কা পাশ করাইয়ে দিবে। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুু উপজেলার ধুলিয়া গ্রামের ভিক্ষুক শহর আলী (৬০)।

তিনি ওই গ্রামের মৃত: আখের আলীর ছেলে। ভিক্ষা করে নিজের জমানো দু‘দিনের পাঁচ‘শ টাকা হরিণাকুন্ডু পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফারুক হোসেনের হাতে তুলে দিয়ে এভাবেই নৌকার প্রতি ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করেন। ভিক্ষুক শহর আলী একজন শারীরিক ও বাঁক প্রতিবন্ধি। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ভিক্ষা করেই তাঁর জীবন চলে। নিজের জমিজমা বা সম্পদ বলতে কিছুই নেই। নেই নিজের কোন ঘরবাড়ি। সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে বাড়ি ফিরে ভাইয়ের ঘরেই বারান্দায় রাতযাপন করেন ভিক্ষুক শহর আলী। সারাদিন ভিক্ষা করে যা রোজগার হয় তা দিয়েই চলে তার জীবিকা।

তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি রয়েছে তাঁর বিরল ভালবাসা। তাই জীবনে কোনদিন তিনি নৌকা ছাড়া অন্য প্রতীকে ভোট দেননি। নৌকার তাঁর এই বিরল ভালবাসার কারনেই ভিক্ষুক শহর আলী মঙ্গলবার দুপুরে এসেছিলেন পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ফারুক হোসেনকে খুঁজতে। লোকমুখে শুনে প্রার্থী ফারুক হোসেন নিজেই দেখা করেন ভিক্ষুক শহর আলীর সাথে। এ সময় শহর আলী যখন ভিক্ষা করে নিজের জমানো পাঁচ‘শ টাকা ফারুকের তুলে দেন তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নৌকার মেয়র প্রার্থী ফারুক হোসেনও।

তিনি আবগেজড়িত কন্ঠে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার এবং নৌকা প্রতীকের প্রতি একজন ভিক্ষুকের এমন বিরল ভালবাসা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। পৌরসভার ভোটার বা বাসিন্দা না হয়েও শহর আলী ভিক্ষা করে নিজের জমানো টাকা নৌকার প্রচারের জন্য তুলে দিতে ছুঁটে এসেছেন। নৌকার প্রতি শহর আলীর এমন দরদ আমাদের বিবেককে জাগ্রত করেছে। তাঁর জন্য কিছু একটা করা হবে বলেও জানান ফারুক হোসেন।

ভিক্ষুক শহর আলী ভিক্ষা করে জমানো টাকা নৌকার প্রার্থীর হাতে তুলে দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় এই বিরল ঘটনার খবর পান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন। সাথে সাথে তিনি কাজ ফেলে ছুঁটে আসেন সেখানে। এ সময় তিনি ভিক্ষুক শহর আলীকে জড়িয়ে ধরে আবেগে কেঁদে খেলেন।

আবেগ আপ্লত উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, এমন মানুষের ভালবাসাই আজও টিকে আছে আওয়ামী লীগ, আজীবন টিকে থাকবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেওয়া দলটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে দেশ। সেই সাথে সকল উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই সাধিত হবে। তিনি ভিক্ষুক শহর আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাকে সহায়তার কথা জানান।

Related Articles

Close